ঢাকা | বঙ্গাব্দ

‘অভিশাপ’ যেন পিছু ছাড়ে না, তিনবার পুড়ে নিঃস্ব কড়াইল বস্তিবাসী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 26, 2025 ইং | Photo Card
‘অভিশাপ’ যেন পিছু ছাড়ে না, তিনবার পুড়ে নিঃস্ব কড়াইল বস্তিবাসী ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত
ad728

‘তিনবার আগুনে পুড়লাম। ২০০৪, ২০১৭ এবং এবার ২০২৫ সালে আবার পুড়লাম।’-কথাগুলো বলছিলেন আলেয়া বেগম (৫০)। কণ্ঠ তার কান্নায় ভেজা। রাজধানীর কড়াইল বস্তির বউ বাজার সংলগ্ন অংশে বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালেও ধোঁয়া উড়ছিল, আর সে ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে আলেয়া যেন হারানো জীবনের হিসাব মেলাচ্ছিলেন।

মাত্র দু'দিন আগে ব্যবসার জন্য দুই লাখ টাকা লোন নিয়েছিলেন তিনি। আগুন লাগার সময় ভাগ্যক্রমে ছেলে-মেয়েরা কেউ ঘরে ছিল না, কিন্তু সে ভাগ্য তাকে সর্বস্বান্ত করেছে। “থাকলে অন্তত প্রয়োজনীয় জিনিস ও টাকা পয়সা উদ্ধার করতে পারতাম। এখন সব টাকা পুড়ে ছাই। সব আত্মীয় স্বজনের ঘর পুড়ে ছাই, একজন যে আরেক জনকে সাহায্য করবে এমন ব্যবস্থা নেই। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি,” বাংলানিউজকে বলছিলেন তিনি।

আলেয়া বেগমের ঘর ও দোকানসহ পুড়েছে মোট পাঁচটি কাঠামো। কিন্তু এ আগুন শুধু তার জীবন নয়, কেড়ে নিয়েছে প্রায় দেড় হাজার পরিবারের স্বপ্ন।সিলিন্ডারের অভিশাপ আর যেভাবে ছড়াল লেলিহান শিখা

সরেজমিনে গুলশান লেকের গুদারা ঘাট সংলগ্ন কড়াইল কবরস্থান বস্তিতে দেখা যায় এক বিস্তীর্ণ ধ্বংসস্তূপ। বস্তির সরু গলিপথ, যেখানে দুটি রিকশার যাতায়াতই কষ্টকর, সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে চরম বেগ পেতে হয়েছে। বস্তির ভেতরের রাস্তা এতটাই সংকীর্ণ যে দু'জন পাশাপাশি হেঁটে যাওয়াও প্রায় অসম্ভব।এ বস্তির অধিকাংশ ঘরই বাঁশ ও টিনের তৈরি। ধ্বংসলীলার মাঝে অক্ষত দাঁড়িয়ে আছে কেবল কয়েকটি পাকা বাড়ি, যেন তা কোনো এক নির্মম নিয়তির সাক্ষী।

আগুন লাগার সূত্রপাত আলেয়া বেগমের ভাড়া দেওয়া চায়ের দোকানে পাশের আরেকটি চায়ের দোকান থেকে। দোকানের ভাড়াটিয়া রোকসানা তখনও দোকানেই ছিলেন। তিনি জানান, তার দুই দোকান পরেই আগুন লাগে। সবাই মিলে নেভানোর চেষ্টা করলেও দোকানে থাকা সিলিন্ডার ব্লাস্ট হলে মুহূর্তে আগুন আশপাশের দোকান এবং তার দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসের প্রভাবে সেই আগুন দ্রুত গোটা বস্তিকে গ্রাস করে।
রোকসানার নিজের দেড় লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। তিনি আরও জানান, ‘বছর দেড়েক আগে এ বস্তির সমস্ত সরকারি গ্যাসের লাইন অবৈধ বলে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই সবাই সিলিন্ডার ব্যবহার শুরু করে। আগুন লাগার পর এ সিলিন্ডারের কারণেই ক্ষতি বেশি হয়েছে। আগুন লাগার পর একে একে সব সিলিন্ডার বিস্ফোরণ শুরু হয়, যার ফলে আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।
খবর- বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স