
নিউজ বাংলা ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সিনো-বাংলা ডে ২০২৬’ ও ‘চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ জব ফেয়ার’। এতে চীনের ৩১টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৪৩০টি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন খান (খান জসিম) এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ আয়োজন করা হয়।
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে চীনের ঐতিহ্যবাহী লায়ন ড্যান্স, শান-হাই চাইনিজ কোয়ারের ‘সেম সং’ এবং সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর বাংলা গান পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এসএম ফরহাদ, ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি রেন ওয়াং, আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর রানা, বাংলাদেশ চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ঝু গুয়াংলেই এবং ঢাকাস্থ চীন দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলর লি শাওপেং বক্তব্য দেন।
ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন খান বলেন, জুলাই বিপ্লবে রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সম্প্রতি চীন সফরে দেশটির শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার ধারাবাহিকতায় এ চাকরি মেলা ও প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, চীনা দূতাবাস, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় এ আয়োজন সফল হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ডাকসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের জন্য এত বড় পরিসরে চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নিতে নানা প্রশাসনিক বাধা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। এসব বাধা পেরিয়ে ডাকসুর উদ্যোগে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্পাদক খান জসিমের প্রচেষ্টায় এবং চীনা দূতাবাস ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় প্রায় ৪৩০টি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসু, চীনা দূতাবাস ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে এবং চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় টিএসসিতে সিনো-বাংলা ডে ও চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ৩১টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রায় ৪৩০টি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য হুয়াওয়ের বিনামূল্যে বছরব্যাপী এআই প্রশিক্ষণের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ডাকসুর প্রতিনিধি দলের সাম্প্রতিক চীন সফরের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার এবং একাডেমিক আদান-প্রদান বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাদিক কায়েম আরও বলেন, চীনা অর্থায়নে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৫০০ আসনের নতুন হল নির্মাণের উদ্যোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডাকসু কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও সিএমসি-এর যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘সিনো-বাংলা ফ্রেন্ডশিপ’ স্কলারশিপ ও বার্সারি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও হুয়াওয়ে টেকনোলজিস লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয় এবং ‘হুয়াওয়ে এআই ট্রেনিং প্রোগ্রাম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের চাইনিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ অর্জনকারীদের জন্য প্রাক-যাত্রা দিকনির্দেশনামূলক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার, কার্যনির্বাহী সদস্য রাইসুল ইসলাম, ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ, চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।