জাকিয়া সুলতানা : মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি ও শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলা মাধ্যম সকাল শাখার সহকারী শিক্ষক মনিরুল হাসান, যিনি ২০২৫ সালের ভর্তি দুর্নীতির ঘটনায় এক বছর ধরে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত ছিলেন।
সূত্র জানায়, মনিরুল হাসানের বিরুদ্ধে দুইটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনিয়মের মাধ্যমে বিএড সনদ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি ভর্তি বাবদ ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।
এদিকে ভর্তি দুর্নীতির অভিযোগে পদ হারানো সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইমাম হোসেন বর্তমানে মুগদা শাখায় কর্মরত রয়েছেন, যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইমাম হোসেন এবং সাময়িক বহিষ্কৃত মনিরুল হাসান মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লায়লা আক্তারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। জানা গেছে, লায়লা আক্তারের সঙ্গে অভিযুক্তদের পূর্ব পরিচয় ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে।
অভিভাবক সমাজের অভিযোগ, মনিরুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী চক্রের অংশ। সাবেক সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রভাবশালীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
অভিভাবকদের আশঙ্কা, এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিকে পুনরায় চাকরিতে বহাল করা হলে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে এবং এটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে একটি নেতিবাচক নজির হয়ে থাকবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিভাবক সমাজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
এ বিষয়ে দৈনিক এই বাংলা-কে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লাইলা আক্তার জানান, সাময়িকভাবে বরখাস্ত শিক্ষক মনিরুল ইসলামের পুনর্বহাল সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও জানান, মনিরুল ইসলাম ও তিনি একই জেলার বাসিন্দা হলেও তাদের মধ্যে কোনো ধরনের আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতিতে বিশ্বাসী এবং সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
স্কুলের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম জহুরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনো তাঁর কাছে কোনো পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বক্তব্য বা তথ্য জানতে চাওয়া হয়নি। তিনি জানান, অনিয়মের মাধ্যমে যে বিএড সনদ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন ইতোমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যদি হাইকোর্ট থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে কোনো রায় দিয়ে থাকে, তবে সেই রায়ে কী উল্লেখ রয়েছে তা যাচাই করা জরুরি। পুনর্বহাল সংক্রান্ত বিষয়টি তিনি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানান এস এম জহুরুল ইসলাম।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বছরও ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ইংলিশ ভার্সনের শিক্ষক লিনা আফরিন এবং চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহানা ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁদের শোকজ করা হলেও বাস্তবে ভর্তি প্রক্রিয়ায় সংঘটিত দুর্নীতির কোনো কার্যকর বিচার বা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন আভাস এখনো মিলছে না। ফলে শোকজ কার্যক্রমটি আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে কি না, সে প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল