নিউজ বাংলা ডেস্ক: ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এ নাবিকদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, জাহাজে এমন কোনো সংঘর্ষ বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তাদের দাবি, ইরানি সূত্র থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ভুয়া তথ্য প্রচার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেন্টকম জানায়, গত ৩ আগস্ট জাহাজে কর্মরত একজন নাবিক দুর্ঘটনাবশত সাগরে পড়ে গেলেও তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে জাহাজে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
যদিও সাত সেনার মৃত্যুর খবরটি মিথ্যা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, তবুও রণতরীতে কর্মরত প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও সেনাসদস্যের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের মোতায়েনে ছয় মাস সাগরে থাকার কথা থাকলেও, তারা প্রায় নয় মাস ধরে টানা সমুদ্রে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ডিসেম্বরের পর থেকে রণতরীটি কোনো বন্দরে ভিড়তে পারেনি।
মার্কিন আইনপ্রণেতা এবং নাবিকদের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বর্তমানে অত্যন্ত চাপপূর্ণ। অনেক শৌচাগার অচল, পর্যাপ্ত গরম পানির ব্যবস্থা নেই এবং তাজা ও পুষ্টিকর খাবারের সরবরাহও সীমিত। টানা ২০০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় নাবিকদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিকূল পরিবেশে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সুবিধা ছাড়া দায়িত্ব পালন করলে সেনাসদস্যদের মনোবল, কর্মক্ষমতা এবং মানসিক স্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই স্বাভাবিক। ফলে রণতরীটির মোতায়েন পরিস্থিতি ও নাবিকদের কল্যাণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল