ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত আদালতের হাতে থাকবে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভারতের আইন অনুযায়ীও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না, সেটি পরীক্ষা করা হবে।
আরেক ভারতীয় কর্মকর্তা জানান, শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বর দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। গত ৫ আগস্ট এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস হওয়ায় ওই মাসেই দেশে ফিরতে চান।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্রসহ অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
২০১৩ সালের ওই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধে বিচারিকভাবে দণ্ডিত হলে বা বিচারের মুখোমুখি হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রত্যর্পণের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধ সাধারণত প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে থাকলেও হত্যা, হত্যাচেষ্টা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারসহ ১২ ধরনের অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার বিধান রয়েছে।
ভারতের প্রত্যর্পণ আইন-১৯৬২ অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্তের জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে তিনি প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। তবে অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি না মিললে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’ শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর তাঁকে ফেরত দেওয়ার দাবি আরও জোরালো করেছে বাংলাদেশ।
বর্তমানে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত এবং তাঁর দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ।
নিউজ বাংলা চ্যানেল