ঢাকা | খ্রি.

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পরিচয় যাচাইয়ে চীনে নজরদারি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 17, 2026 ইং | Photo Card
কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পরিচয় যাচাইয়ে চীনে নজরদারি ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : চীনের সরকারি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই। নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইপোক টাইমস (টিইটি)-এর এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিইটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেংডুর একটি সরকারি হাসপাতাল স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মীদের তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের তথ্য দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতালটি একটি অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে। সেখানে ‘মতাদর্শগত, জাতিগত এবং ধর্মীয় কাজের নিয়মিত তদন্ত’ পরিচালনার অংশ হিসেবে কর্মীদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে বিস্তৃত তথ্য সংগ্রহের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে কোনো কর্মীকে বাদ না দিয়ে প্রত্যেকের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টিইটির তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সব কর্মীকে নির্ধারিত তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয় এবং কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য গোপন বা বাদ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি।

ধর্মীয় কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এমন কর্মীদেরও নিবন্ধনের আওতায় এনে ‘কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস নেই’ অপশন নির্বাচন করতে বলা হয়েছে। একই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) সদস্যদের কোনো ধর্ম পালন করার অনুমতি নেই। ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন কর্মীদের বিষয়ে তাদের পার্টি শাখাকে অবহিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও একই ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের চর্চা রয়েছে। সিচুয়ানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেন নামে পরিচিত এক প্রশাসনিক কর্মী টিইটিকে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তা উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়ার জন্য সংকলন করা হচ্ছে।

চেংডুর শিক্ষা কর্তৃপক্ষের একজন কর্মীও টিইটিকে জানিয়েছেন, নতুন শিক্ষার্থীরা স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে শিক্ষা ব্যবস্থা তাদের পরিবারের বিষয়ে প্রতিবছর পটভূমি যাচাই করে। এই যাচাইয়ের আওতায় পরিবারের ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতার তথ্যও সংগ্রহ করা হয় বলে জানান তিনি।

দ্য ইপোক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব কার্যক্রম ধর্মকে রাজনৈতিক ও আদর্শগত ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বৃহত্তর অবস্থানের প্রতিফলন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিসিপি বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় বিষয়ে পার্টির নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে এবং একই সঙ্গে ‘ধর্মের চীনাকরণ’ নীতি প্রচার করে আসছে।

টিইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনা নেতা শি জিনপিং আবারও সব স্তরের পার্টি কর্তৃপক্ষকে ধর্মীয় বিষয়ে নেতৃত্ব জোরদার করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ধর্মীয় কার্যক্রমকে পার্টির সামগ্রিক নেতৃত্ব ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলেন তিনি।

(এএনআই)


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স