বিধানসভায় স্বাস্থ্য ও রাজস্ব বিভাগের অনুদানের দাবির ওপর আলোচনা চলাকালে ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। ওই আলোচনায় তামিলনাড়ুর বনমন্ত্রী আর ভি রঞ্জিত কুমার নির্বাচনে ‘ভোটের বিনিময়ে টাকা বিতরণ’ প্রথার সমালোচনা করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আলোচিত ‘তিরুমঙ্গলম ফর্মুলা’র প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, তার কাঞ্চীপুরম কেন্দ্রে আগের নির্বাচনগুলোতে ভোটপ্রতি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ রুপি পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের সঙ্গে অতীতের সরকারগুলোর পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার জন্য কোনো অর্থ বিতরণ করেনি।
এরপর অতীতের নির্বাচনী কৌশলগুলোর প্রসঙ্গ টানতে গিয়ে বনমন্ত্রী প্রয়াত ডিএমকে নেতা এম করুণানিধিকে শুধু ‘করুণানিধি’ নামে উল্লেখ করেন। অথচ তামিলনাড়ু বিধানসভার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী প্রবীণ ও সম্মানিত নেতাদের নামের সঙ্গে ‘কলাইঞার’ বা ‘সাবেক মুখ্যমন্ত্রী’র মতো সম্মানসূচক পরিচয় ব্যবহারের রীতি রয়েছে।
বনমন্ত্রীর বক্তব্যে সম্মানসূচক পদবি না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিরোধী ডিএমকের বিধায়কেরা। সাবেক মন্ত্রী কে কে এস এস আর রামচন্দ্রনের নেতৃত্বে তারা সংসদীয় সৌজন্য ও শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ শুরু করেন।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে অধিবেশনের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বনমন্ত্রীকে বক্তব্যের মাঝেই থামিয়ে দিয়ে স্বীকার করেন, প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতাকে ওইভাবে সম্বোধন করা অনুচিত ও অনভিপ্রেত হয়েছে।
বিরোধী ডিএমকের ক্ষোভ প্রশমনে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বিধানসভায় বলেন, ‘আমি তার (বনমন্ত্রীর) পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি।’ এরপর তার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং বিধানসভার কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়।
নিউজ বাংলা চ্যানেল